করোনা কালীন “ইদের নামাজ” কিভাবে আদায় করবো?

আল্লাহর কাছে আশ্রয় কামনা করছি যেন আল্লাহ্‌ আগেই এই আজাবকে আমাদের থেকে উঠিয়ে নেয়। আমারা সবাই যেন ঈদগাহে গিয়ে ঈদের সালাত আদায় করতে পারি। তারপরে-ও যদি এমন হালাত সৃষ্টি হয় যে, মসজিদের বা ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে ইসলামে এর বিধিবিধানগুলো জেনে রাখি , চলুন…

আলোচনা বুঝার জন্য চারটি জিনিস বুঝুন

  • ঈদের নামাজের শর্তগুলো কি কি?
  • বাড়িতে ঈদের নামাজের বিধান কি?
  • একাকি পড়বে নাকি জামাত বদ্ধ হয়ে পড়বে?
  • ঈদের সালাতের খুতবাহ দেওয়ার কি জরুরি?

ঈদের নামাজের ও জুম্মার নামাজের শর্ত একি। অর্থাৎ-
ঈদের জন্য শর্ত কি কি:

ব্যক্তির জন্য শর্তঃ

  • আকল সম্পন্ন হওয়া
  • বালেগ
  • স্বাধীন
  • পুরুষ
  • মুকীম হওয়া। মুসাফির না হওয়া।
  • সুস্থ হওয়া (বাদায়ে-উস-সানায়ে-১/২৭৫)

নামাজের জন্য শর্তঃ

  • শহর হওয়া।(এটা হানাফী মাজহাবে শর্ত)
  • ঈদের নামাজের খুতবা সুন্নাত।
  • জামাত(একাকীও কারোর কারোর মতে পড়া যায়)
  • সালাতের সময় হওয়া(বাদায়ে-উস-সানায়ে-১/২৭৫ )

وَأَمَّا شَرَائِطُ وُجُوبِهَا وَجَوَازِهَا فَكُلُّ مَا هُوَ شَرْطُ وُجُوبِ الْجُمُعَةِ وَجَوَازِهَا فَهُوَ شَرْطُ وُجُوبِ صَلَاةِ الْعِيدَيْنِ وَجَوَازِهَا مِنْ الْإِمَامِ وَالْمِصْرِ وَالْجَمَاعَةِ وَالْوَقْتِ إلَّا الْخُطْبَةَ فَإِنَّهَا سُنَّةٌ بَعْدَ الصَّلَاةِ
– (বাদায়ে ও সানায়ে-১/২৭৫)

বাসায় ঈদের নামাজ পড়ার বিধান কি?

ইমাম বুখারি(রাহি) তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ

৬২৬,অনুচ্ছেদঃ কেউ ঈদের সালাত না পেলে সে দু’ রাকাআত সালাত আদায় করবে। মহিলা এবং যারা বাড়ী ও পল্লীতে অবস্থান করে তাঁরাও এরুপ করবে। কেননা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ হে মুসলিমগণ ! এ হলো আমাদের ঈদ।আর আনাস ইবনে মালিক(রাদি) যাবিয়া নামক স্থানে তাঁর আযাদকৃত গোলাম ইবন আবু উতবাকে এ আদেশ করেছিলেন। তাই তিনি তাঁর পরিবারবর্গ ও সন্তান সন্ততিদের নিয়ে শহরের অধিবাসীদের ন্যায় তাকবীরসহ সালাত আদায় করেন এবং ইকরিমা(রাদি) বলেছেন, গ্রামের অধিবাসীরা ঈদের দিন সমবেত হয়ে ইমামের ন্যায় দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করবে। আতা(রাহি) বলেছেন, যখন কারো ঈদের সালাত ছুটে যায় তখন সে দু’ রাকআত সালাত আদায় করবে।

(বুখারি-২/২২১ ইঃফাঃ, উমাদাতুল কারী-৬/৪৪৪, ফাতহুল বারী-২/৫৫০)

এই তালিকাত হাদিসের ব্যাপারে ইবনে হাজর(রাহি) বলেছেন-
أن أثر أنس المذكور قد وصله ابن أبي شيبة في المصنف

অর্থঃ ইবনে আবি শাইবাহ(রাহি) মুসান্নাফে আনাস(রাদি)-এর আসারটাকে সুত্রসহ উল্লেখ করেছে-
(ফাতহুল বারী-৩/১২৭-১২৮)

ইমাম বাইহাকী(রাহি) বলেছেন,
ويذكر عن أنس بن مالك أنه كان بمنزله بالزاوية، فلم يشهد العيد بالبصرة، جمع مواليه وولده ثم يأمر مولاه عبد الله بن أبي عتبة فيصلي بهم كصلاة أهل المصر ركعتين ويكبر بهم كتكبيرهم

অর্থঃ আনাস ইবনে মালেক(রাদি)বিষয়ে বর্ণিত আছে যে, যারিয়া তাঁর বাসায় তিনি ছিলেন(বসরার নিকটবর্তী একটা জায়গার নাম “যারিয়া”)। তিনি বসরায় ঈদের সালাতে শরিক হতে পারেনি। তিনি তার গোলাম ও সন্তানদেরকে একত্রিত করলেন। এবং তাঁর গোলাম আব্দুল্লাহ ইবনে আবি উতবাহকে আদেশ দিয়েছিলেন। তাই তিনি তাঁদেরকে নিয়ে শহরের অধিবাসীদের ন্যায় তাকবীরসহ সালাত আদায় করলেন। (সুনানে বাইহাকি-৩/৩০৫)

এরকম আর ফাতওয়া দেখতে দেখুন-
(মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ-২/১৮৩-১৮৪, মুসান্নাফে ইবনে আব্দুর রাজ্জাক-৩/৩০০-৩০১)

আমরা এইসব আসার দ্বারা দেখলাম, যদি ইমামের সাথে ঈদের সালাত কেউ আদায় করতে না পারে তবে সে তাঁর পরিবার-পরিজন নিয়ে জামাত করে ঈদের সালাত বাসায় আদায় করতে পারবে। আর এখন যেহেতু কঠিন এক অবস্থা চলছে তাই জানা নাই(আল্লাহ্‌ অবস্থা ঠিক করে দিন) সামনে ঈদগাহে গিয়ে জামাতে ঈদের সালাত আদায় করতে পারব কিনে। সে অবস্থায় শর্তগুলো সামনে রেখে যদি বাসায় পরিবারপরিজন নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারি তবে কোন সমস্যা নেই।

যদি জামাত করার মত লোক না থাকে তবে কি একা একা ঈদের নামাজ পড়া যাবে?

এই ব্যাপারে দুই রকম মত পাওয়া যায়। হানাফি আলামেগণ ছাড়া অন্যান্য ইমামদের মত হলো, একা একা-ও ঈদের নামাজ পড়তে পাড়বে। যদি ইমামের সাথে জামাত না পায়। এখানে যেহেতু ইমাম ঈদের সালাত পড়াতে পারছে না সেহেতু একি কথা।
(মারেফাতুলস সুন্নানি ওয়াল আসার-৫/১০৩, মুগনি-২/২৯০, যাখীরাহ-২/৪২৩)

হানাফী মাজহাব, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া(রাহি) ও শায়েখ মুহাম্মদ বিন সালেহ উসাইমিন(রাহি)-এর মতে জামাতের সাথে পড়তে পারবে। কেননা, আমরা একটু পূর্বে আনাসা ইবনে মালিক(রাদি)-এর ঘটনা দেখলাম। তাঁরা জামাতসহ কারে পড়েছিল।
(ফাতওয়া শামী-২/১৭৫, শরহে মুমতি’-৫/১৫৬)

তবে আমার মতে জামাতসহ পড়ার মতটি বেশি গ্রহণযোগ্য। তবে অনেক চেষ্টা করেও যদি সে জামাত না করতে পারে তবে আশাকরা যায় একাকি ঈদের সালাত আদায় করলে-ও হয়ে যাবে। তবে এমন না করার চেষ্টা করা।

ঈদের খুতবাহ দেওয়া কি জরুরি?

ঈদের খুতবা সুন্নাহ। বাসায় যখন সালাত আদায় করবে তখন ঈদের খুতবা ছাড়াই পড়বে বলে “লাজনাতুদ দায়েম” ফাতওয়া দিয়েছে।
(ফাতওয়ে লাজনাতুদ দায়েমাহ-৮/৩০৬)

তবে এখন যেহেতু ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না তাই বাসায় ঈদের নামাজের পর দুটি খুতবাহ দিতে পারে যদি সম্ভব হয়। তবে সম্ভব না হলে সমস্যা নেই। এটা সুন্নাহ। এর কারনে ঈদের নামাজের কোন ক্ষতি হবে না, ইন শা আল্লাহ্‌।

আর একাকী পড়লে খুতবা দেওয়ার কোন দরকার নেই।

লিখেছেন
আব্দুর রহমান

 

Join the Conversation