কুরআন থেকে বারাকাহ (বরকত) লাভের সাতটি ক্ষেত্র রয়েছে :
- ১. কুরআন অধ্যয়নের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ، خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ، اِقۡرَاۡ وَ رَبُّکَ الۡاَکۡرَمُ، الَّذِیۡ عَلَّمَ بِالۡقَلَمِ، عَلَّمَ الۡاِنۡسَانَ مَا لَمۡ یَعۡلَمۡ
পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে ‘আলাক’ থেকে। পড়, আর তোমার রব মহামহিম। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না। —[সুরাহ আল-আলাক, আয়াত ১-৫]
কুরআন অধ্যায়নের মাধ্যমে আমরা এমন বারাকাহ প্রাপ্ত হতে পারি, যার মাধ্যমে আমাদের হৃদয় প্রশান্ত হবে।
- ২. মনোযোগসহ কুরআন শ্রবণের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ اِذَا قُرِیٴَ الۡقُرۡاٰنُ فَاسۡتَمِعُوۡا لَہٗ وَ اَنۡصِتُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং নিশ্চুপ হয়ে থাক; যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়। —[সুরাহ আল-আরাফ, আয়াত ২০৪]
মনোযোগসহ শোনার অর্থ হলো কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের নিয়তে তিলাওয়াতকারীর প্রতি মনোযোগী হওয়া। তবে চুপ থাকার অর্থ আরও অতিরিক্ত কিছু। আর সেটা হলো, কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া অন্য সকল কিছুর থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
- ৩. কুরআনের জ্ঞানার্জনের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
اَلرَّحۡمٰنُ، عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ
অনন্ত করুণাময় (আল্লাহ); তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। —[সুরাহ আর-রহমান, আয়াত ১,২]
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কুরআনের ইলম শিক্ষা দিয়ে আমাদের আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আমাদের উচিত সেই শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদেরকে ধন্য করা ও এবং অন্যকে শিখানোর মাধ্যমে এই বারাকাহ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া।
- ৪. কুরআনের ওপর আমলের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ ہٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ مُبٰرَکٌ فَاتَّبِعُوۡہُ وَ اتَّقُوۡا لَعَلَّکُمۡ تُرۡحَمُوۡنَ
আর এটি কিতাব- যা আমি নাযিল করেছি- বরকতময়। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও। —[সুরাহ আল-আনআম, আয়াত ১৫৫]
মনে রাখবেন, কুরআন মাজদি সর্বশেষ আসমানি ও বরকতময় কিতাব, জীবনের সর্বক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা ও তার ওপর আমল করা একান্ত কর্তব্য।
- ৫. কুরআনের আয়াত নিয়ে তাদাব্বুরের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰہُ اِلَیۡکَ مُبٰرَکٌ لِّیَدَّبَّرُوۡۤا اٰیٰتِہٖ وَ لِیَتَذَکَّرَ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ
আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে। —[সুরাহ সাদ, আয়াত ২৯]
পূর্বোল্লিখিত কুরআনের ইলম ও আমল—উভয়টাকে এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা একত্রে উল্লেখ করেছেন। কারণ, কুরআনে ইলম ও তার ওপর আমল— উভয়ের সমন্বয়কেই ‘তাদাব্বুর’ বলা হয়।
- ৬. কুরআনের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ نُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا ہُوَ شِفَآءٌ وَّ رَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ۙ وَ لَا یَزِیۡدُ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا خَسَارًا
আর আমি কুরআন নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত, কিন্তু তা যালিমদের ক্ষতিই বাড়িয়ে দেয়। —[সুরাহ আল-ইসরা, আয়াত ৮২]
কুরআন মুমিনদের জন্য দৈহিক ও আত্মিক চিকিৎসা ও রহমতস্বরূপ।
- ৭. কুরআনের হুকুম বাস্তবায়নের বারাকাহ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
اَفَحُکۡمَ الۡجَاہِلِیَّۃِ یَبۡغُوۡنَ ؕ وَ مَنۡ اَحۡسَنُ مِنَ اللّٰہِ حُکۡمًا لِّقَوۡمٍ یُّوۡقِنُوۡنَ
তারা কি তবে জাহিলিয়্যাতের বিধান চায়? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? —[সুরাহ আল-মায়িদাহ, আয়াত ৫০]
আল্লাহর হুকুম সেটা, যেটা কারআনে রয়েছে। আর তার ব্যাখ্যা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ। উভয়টাই ওহি। কুরআন যদি হয় একটি ঝর্ণাধারা, তবে সেই ঝর্ণাধারার স্রোতধারার নামই হলো ‘হাদিস’। সে অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করা ও এবং পারস্পরিক বিবাদমান বিষয়ের ফয়সালার জন্য তারই দ্বারস্থ হওয়া মুসলিম উম্মাহর একান্ত কর্তব্য। এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ যুগে যুগে প্রভূত কল্যাণ ও বারাকাহ লাভ করেছে। বর্তমানে যে বারাকাহ থেকে উম্মাহ সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পরিপূর্ণরূপে কুরআনের বারাকাহ লাভের তাওফিক দান করেন। আমিন।