ইসলাম নারীকে উপার্জন করার দায়িত্ব অর্পন করেনি। এটি পুরুষদের কাজ। নারীর যাবতীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পুরুষদের। আর নারীর দায়িত্ব হচ্ছে আদর্শ পরিবার ও সংসার রচনা করা। সুতরাং চাকরি বা ব্যবস্যায়ের উদ্দেশ্যে নারী বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে না যা ইতিপূর্বে আমরা সুবিস্তর আলোচনা করেছি।

বিস্তারিত দেখুনঃ https://cutt.ly/gl1FLmI

নারীর প্রধানতম কর্তব্য হলো, তার ঘর সংসারকে পরিচালনা করা, তার পরিবারের সার্বিক দিক লক্ষ্য রাখা, তার সন্তানদের প্রতিপালন পরিচর্যা করে দ্বীনি শিক্ষা দীক্ষাসহ সার্বিকভাবে উপযোগী করে তোলা এবং তার স্বামীর সাথে সদ্ভাব বজায় রাখা।
[আল মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়ইতিয়্যাহ, ৭/৮২]

অন্যদিকে নারীর খাদ্য বস্ত্র বাসস্থানসহ ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় ব্যয়, সংসার পরিচালনা ও সন্তান-সন্ততি সহ পারিবারিক এবং সামাজিক অন্যান্য ব্যয়ভার থেকে নারীকে সম্পূর্ণরূপে দায়মুক্ত রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে তার উপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই। যাবতীয় দায়ভার স্বামী, পিতার, ভাই বা ছেলে সন্তানের উপর আরোপিত হয়েছে।
[আল মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়ইতিয়্যাহ ৭/৮২]
প্রত্যেক নারী তার স্বামীর গৃহের ব্যাপারে দায়িত্বশীলা। আর কিয়ামতের দিন সে তার এ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
[সহীহ বুখারীঃ ৮৯৩]
তবে যদি কোন নারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব তার স্বামী বা মাহরাম পুরুষ না নেয় কিংবা অক্ষম হয় অথবা ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার এমন কেউ না থাকে তাহলে প্রয়োজনে সে শরীয়ত সম্মত পন্থায় ও শর্তে হালাল পেশার চাকুরী ও ব্যবসা করতে পারবে।
জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিঃ বলেন-
‘আমার খালা তালাক প্রাপ্তা হলে নিজেদের খেজুর বাগানে গিয়ে খেজুর সংগ্রহ করার ইচ্ছা করেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বের হতে নিষেধ করেন। ফলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ তুমি তোমার খেজুর সংগ্রহ করতে পার। আশা করি তুমি সদকাহ করবে অথবা সৎ কাজ করবে’।
[সহীহ মুসলিমঃ ১৪৮৩]
হযরত আবু বকর রাযি. এর কন্যা আসমা রাদি. বলেন-
যখন যুবায়ের (রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু) আমাকে বিবাহ করেন, তখন তার না ছিল সম্পত্তি আর না ছিল কোন চাকর-বাকর। একটা উট আর একটা ঘোড়াই ছিল তার সম্বল। ঘোড়াটাকে আমি ঘাস-পানি খাওয়াতাম। সাথে সেলাই ও গম ভাঙ্গার কাজও করতাম। আমি রুটি তৈরি করতে জানতাম না, আমার কয়েকজন ভাল আনসার প্রতিবেশী মহিলা আমাকে রুটি বানিয়ে দিতেন। কিছুদিন পরে রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়ের রাযি. কে একখণ্ড জমি দান করেন। সে জমি থেকে আমি শুকনো খেজুরের বীচি সংগ্রহ করে মাথায় বহন করে আনতাম।
[সহীহ বুখারীঃ ৫২২৪]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিআল্লাহু তাআ’লা আনহু) এর স্ত্রী নিজে ঘরে বসে শিল্পকর্ম করতেন এবং তা বিক্রি করে ঘর-সংসারের খরচাদি চালাতেন। একদিন তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন,
আমি একজন কারিগর মেয়েলোক। আমি তৈরি করা দ্রব্যাদি বিক্রি করি। এছাড়া আমার ও আমার স্বামীর এবং আমার সন্তানদের জীবিকার অন্য কোনো উপায় নেই।
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এভাবে উপার্জন করে তুমি তোমার সংসারের প্রয়োজন পূরণ করছো। এতে তুমি বিরাট সওয়াবের অধিকারী হবে।’
[মুসনাদে আহমাদঃ ১৬১৩০, ১৬০৮৬]
মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহ.) সূরা আহযাবের ৩৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেন-
‘যদি কারো জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সামান বা অন্য কোন পন্থা না থাকে, তবে সাজ-সজ্জা ছাড়া পর্দার সাথে চাকুরী ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বের হওয়াও নারীদের প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার অন্তর্ভূক্ত। তবে শর্ত হলো সৌন্দর্য প্রকাশ না করে বের হওয়া, বরং বোরকা বা জিলবাব তথা বড় চাদর গায়ে দিয়ে বের হওয়া।’
[তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ৭/১৩ ]
মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানভী রহ. বলেন-
নারীর ভরণ-পোষণ স্বামীর দায়িত্বে। কিন্তু কোনো নারীর যদি উপার্জনে সক্ষম অভিভাবক না থাকে তাহলে নিরুপায় অবস্থায় অর্থ উপার্জনের জন্য তার কর্ম বা চাকুরি করার অনুমতি আছে। তবে এ জন্য শর্ত হল, তার ভাবগাম্ভীর্যতা এবং অনুকূল পরিবেশ ও পর্দার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরপুরুষের সঙ্গে একত্রে দায়িত্ব পালন করা জায়েয নেই।
[আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল ৬/৩৮]
তবে এই পরিস্থিতিতে নারীর চাকরী বা ব্যবসার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে, নতুবা তা জায়েয হবেনা-
  • ১/ চাকরি বা ব্যবসায়টি হালাল হতে হবে এবং তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে। যেমনঃ ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা হতে হবে।
  • ২/ কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।
  • ৩/চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।
  • ৪/ কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোন হারাম কাজ করতে না হয়। যেমন, ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।
কেননা নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
«أيما امرأة استعطرت ثم خرجت فيوجد ريحها، فهي زانية، وكل عين زان»
“যে নারী এমন সুগন্ধি ব্যবহার করে বের হয় যার সুঘ্রাণ (আশে পাশে) ছড়ায়, ঐ নারী ব্যভিচারিণী!”
[সুনানে নাসায়ী ৮/১৫৩ হাঃ৫১২৬; মুসনাদে আহনাদ ৪/৪০০ , ৪১৩, ৪১৮ হাঃ১৯৫৯৩ (আরনাউত্বের তা’লীক কৃত) ; তিরমিযী (তুহফাতুল আহওয়াযী) ৮/৫৮ হাঃ২৯৩৭; সুনানে আবু দাউদ (আওনুল মা’বুদ) ১১/১৫৩ হাঃ৪১৩৭; সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৩/৯১ হাঃ১৬৮১; সহীহ ইবনু হিব্বান ( আরনাউত্বের তা’লীক কৃত) ১০/২৭০ হাঃ৪৪২৪; সুনানে দারেমী ২/৩৬২; মুস্তাদরাকে হাকেম ২/৪৩০ হাঃ৩৪৯৭- হাদিসটির সনদগুলো ক্বউই, হাসান ও জায়্যিদ।]
  • ৫/ নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না।
    [ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১ ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯ ;আল মাউসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আলকুওয়াইতিয়্যাহ ৭/৮৩-৮৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮, ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯]
{وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا قَالَتَا لا نَسْقِي حَتَّى يُصْدِرَ الرِّعَاءُ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ}
[القصص:,2423]
ولها ان تقوم بالتدريس والبيع والشراء والصناعة من نسيج وصيغ وغزل وخياطة ونحو ذلك إذا لم يفض إلى مالا يجوز شرعا من خلوتها بأجنبى، أو اختلاطها برجال غير محارم اختلاطا تحدث منه فتنة أو يؤدى إلى فوات ما يجب عليها نحو اسرتها دون أن تقيم مقامها من يقوم بالواجب عنها ودون رضاهم
[فقه النوازل-3/359]

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *