আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করে, তার সমকক্ষ মনে করে, তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে স্রষ্টা মনে করে যার বা যা-কিছুর পূজা করা হয়, কাউকে আল্লাহর সন্তান বলে (নাউযুবিল্লাহ) যে দিবস পালন করা হয়, কিংবা আল্লাহ নিজেই এই দিনে মানবরুপে পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ) বলে বিশ্বাস করে যে দিন উদযাপন করা হয়, মূর্তি-গাছ-মানব-দানব-চন্দ্র-সূর্য-পাথর-জ্বীন-শয়তান ইত্যাদির পূজা করে উপাসনা করে যেসব দিবস পালন করা হয়, এই দিবসগুলো উপলক্ষে একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে বিধর্মীদেরকে শুভেচ্ছা জানানো, উইস করা, কার্ড দেয়া, গিফট পাঠানো ইত্যাদি সম্পূর্ণ হারাম।

এ ব্যাপারে ইমাম ইবনুল কাইয়িম রাহি. বলেন,

وَأَمَّا التَّهْنِئَةُ بِشَعَائِرِ الْكُفْرِ الْمُخْتَصَّةِ بِهِ فَحَرَامٌ بِالِاتِّفَاقِ مِثْلَ أَنْ يُهَنِّئَهُمْ بِأَعْيَادِهِمْ وَصَوْمِهِمْ، فَيَقُولَ: عِيدٌ مُبَارَكٌ عَلَيْكَ، أَوْ تَهْنَأُ بِهَذَا الْعِيدِ، وَنَحْوَهُ، فَهَذَا إِنْ سَلِمَ قَائِلُهُ مِنَ الْكُفْرِ فَهُوَ مِنَ الْمُحَرَّمَاتِ، وَهُوَ بِمَنْزِلَةِ أَنْ يُهَنِّئَهُ بِسُجُودِهِ لِلصَّلِيبِ، بَلْ ذَلِكَ أَعْظَمُ إِثْمًا عِنْدَ اللَّهِ وَأَشَدُّ مَقْتًا مِنَ التَّهْنِئَةِ بِشُرْبِ الْخَمْرِ وَقَتْلِ النَّفْسِ وَارْتِكَابِ الْفَرْجِ الْحَرَامِ وَنَحْوِهِ. وَكَثِيرٌ مِمَّنْ لَا قَدْرَ لِلدِّينِ عِنْدَهُ يَقَعُ فِي ذَلِكَ، وَلَا يَدْرِي قُبْحَ مَا فَعَلَ، فَمَنْ هَنَّأَ عَبْدًا بِمَعْصِيَةٍ أَوْ بِدْعَةٍ أَوْ كُفْرٍ فَقَدْ تَعَرَّضَ لِمَقْتِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ.

কোন কুফরি আচারানুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন- তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, ‘তোমাদের উৎসব শুভ হোক’ কিংবা ‘তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক’ কিংবা এ জাতীয় অন্য কোন কথা। যদি এ শুভেচ্ছাজ্ঞাপন করা কুফরির পর্যায়ে নাও পৌঁছে; তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। এ শুভেচ্ছা ক্রুশকে সিজদা দেয়ার কারণে কাউকে অভিনন্দন জানানোর পর্যায়ভুক্ত। বরং আল্লাহর কাছে এটি আরও বেশি জঘন্য অপরাধ। এটি মদ্যপান, হত্যা, যিনা ইত্যাদির মত অপরাধের জন্য কাউকে অভিনন্দন জানানোর চেয়ে মারাত্মক গর্হিত কাজ। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই তাদের অনেকে এ গুনাতে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোন গুনাহর কাজ কিংবা বিদআত কিংবা কুফরি কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায় সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে। [১]

এর হারাম হওয়ার কারণ সম্পর্কে শাইখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ ফা. আ. বলেন,

لأن فيها إقراراً لما هم عليه من شعائر الكفر، ورضى به لهم ، وإن كان هو لا يرضى بهذا الكفر لنفسه ، لكن يحرم على المسلم أن يرضى بشعائر الكفر أو يهنّئ بها غيره ، لأن الله تعالى لا يرضى بذلك

কাফিরদের উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হারাম ও এত জঘন্য গুনাহ হওয়ার কারণ হলো— এ শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে কুফরি আচারানুষ্ঠানের প্রতি স্বীকৃতি ও অন্য ব্যক্তির পালনকৃত কুফরির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়। যদিও ব্যক্তি নিজে এ কুফরি করতে রাজী না হয়। কিন্তু, কোন মুসলিমের জন্য কুফরি আচারানুষ্ঠানের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা কিংবা এ উপলক্ষে অন্যকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হারাম। কেননা আল্লাহ তাআলা কুফরির প্রতি সন্তুষ্ট নন।

পূজা ও এজাতীয় আচার-অনুষ্ঠানের বিষয়টিকে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে যে কোনো মুসলিমের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তার সঙ্গে কোনোরকম সংশ্লিষ্টতারই সুযোগ কোনো মুসলিমের নেই। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের প্রাথমিক যুগে এজাতীয় ধর্মাচারের বিরোধিতা করেই ইসলামের তাওহিদ তথা একত্ববাদের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন। এবং সকল প্রকারের মূর্তি ও পূজাকে শিরক আখ্যা দিয়ে তা থেকে বেঁচে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। সুতরাং আকিদাগত বা বিশ্বাসগত দিক থেকে একজন মুওয়াহহিদ (একত্ববাদী মুসলিম)-এর জন্য পূজা-জাতীয় ধর্মাচারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, সমর্থন করা এবং সেটিকে নিজের উৎসবের বিষয় মনে করার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لَكُمْ وَلا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

যদি তোমরা কুফরি কর তবে (জেনে রাখ) আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি তার বান্দাদের জন্য কুফরি পছন্দ করেন না। এবং যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্য তা-ই পছন্দ করেন। আর কোন বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদের ফিরে যাওয়া। তখন তোমরা যা আমল করতে তা তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তিনি তা সম্যক অবগত। [২]

অতএব, কুফরি উৎসব উপলক্ষে বিধর্মীদেরকে শুভেচ্ছা জানানো হারাম; তারা সহকর্মী হোক কিংবা অন্য কিছু হোক। শিরক-কুফরের সমর্থনের কারণে বা তার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার কারণে কখনও কখনও এটা শিরক কুফরের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সুতরাং মুসলিমদের বুঝতে হবে ও সতর্ক থাকতে হবে— ম্যারি ক্রিসমাস, হ্যাপি দিওয়ালী, পূজার শুভেচ্ছা, ইত্যাদি উইস করার মাধ্যমে ক্ষমার অযোগ্য সর্বনিকৃষ্ট মহাপাপ শিরকে যেনো আমরা জড়িয়ে না পড়ি। সকল দিবস সুস্পষ্ট কুফরি ও সম্পূর্ণ শিরকি বিশ্বাস উদযাপনের নিকৃষ্ট এক দিবস। সুতরাং এই দিবসগুলিতে যে কোন ভাষা ব্যবহার করে তাদেরকে উইস করা, কার্ড দেওয়া, গিফট দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম ও ইমান ভঙ্গের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় এই মর্মে ফতওয়া জিজ্ঞেস করা হয় যে,
দূর্গাপূজা উপলক্ষে কি আমরা শুভেচ্ছা জানাতে পারবো? পূজায় চাঁদা দিতে পারবো? অমুসলিমদের এসব উৎসবে অংশগ্রহণ করা এবং তাদের প্রসাদ খাওয়া কি আমাদের জন্য জাইয হবে?

জবাবে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতওয়া বিভাগ থেকে বলা হয়,

অমুসলিমদের অনুষ্ঠান ও উৎসবগুলো তাদের শিরকযুক্ত আকিদা-বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তাই আমাদের জন্য জরুরি হলো, মুশরিকের সাথে সম্পর্কহীনতার প্রকাশ করা। আর যেহেতু শুভেচ্ছা জানালে তাদের চিন্তা-চেতনা ও আকিদার সমর্থন হয় সেহেতু এর থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য আবশ্যক। অনেক সময় এটা ইমান চলে যাওয়ার কারণও হতে পারে। [৩]

এবং অন্য এক ফতওয়ায় বলা হয়,

পূজা হিন্দুদের একটি বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তাদের প্রোগ্রামে চাঁদা দেয়া কুফর, শিরক এবং না-জাইয কাজে সাহায্য করার নামান্তর। এটা কুরআন মাজিদ ও সুন্নাহর আলোকে সম্পূর্ণ না-জাইয। [৪]

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ.

আর তোমরা গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সাহায্য করো না। [৫]

এছাড়াও দারুল উলুম দেওবন্দের অন্য ফতওয়ায় বলা হয়,

হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করাও হারাম। পরস্পর সম্পর্কের ভিত্তিতে হোক অথবা চাপে পড়ে; কোনো অবস্থাতেই যাওয়া জাইয নয়। ঘুরেফিরে দেখার জন্যও যাওয়া যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَلَا تَرْكَنُوا إِلَى الَّذِينَ ظَلَمُوا فَتَمَسَّكُمُ النَّار.

আর পাপিষ্ঠদের (কাফিরদের) প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে। [৬]

তাদের প্রতি সামান্য ঝুঁকলে এবং তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখলেই যদি জাহান্নামে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে তাদের কুফরি ও শিরকি উৎসবে অংশগ্রহণ করা তো আরও মারাত্মক হবে। তেমনিভাবে তাদের অনুষ্ঠানে দেব-দেবী এবং ভূত-প্রেতের নামে যেসব মিষ্টি ও প্রসাদ উৎসর্গিত করা হয়, সেগুলো খাওয়াও জাইয নয়। [৭]

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন,

اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰهِ الۡاِسۡلَامُ

নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। [৮]

ইসলাম সেই মনোনীত দ্বীন, যার প্রতি সকল নবীগণ সব যুগে আহবান করেছেন এবং যার শিক্ষা দিয়েছেন। আর এখন এই ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ হল সেটাই, যা শেষ নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর সামনে পেশ করেছেন। যাতে আছে যে, তাওহিদ, রিসালাত এবং আখেরাতের উপর ঐভাবেই ইমান আনতে হবে ও বিশ্বাস করতে হবে, যেভাবে নবি করিম (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। এখন কেবল আল্লাহকে এক মনে করে নিলেই অথবা কিছু সৎকর্ম করে নিলেই যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে এবং আখেরাতে মুক্তি পাওয়া যাবে তা নয়; বরং ঈমান, ইসলামের দাবী হল, আল্লাহকে এক মনে করে কেবল তাঁরই ইবাদত করা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ সকল নবিদের উপর ইমান আনা। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পর আর কোন নবি আসবেন না, এ কথাও স্বীকার করে নেওয়া। আর এই ইমানের সাথে সাথে সেই আকিদাহ ও আমলগুলো পালন করতে হবে, যেগুলো কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সাথে সাথে ইসলামবিরোধী যত আকিদাহ-বিশ্বাস রয়েছে সকল বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এখন আল্লাহর নিকট দ্বীনে-ইসলাম ব্যতীত আর কোন দ্বীন গৃহীত হবে না।

অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِن يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئًا لَّا يَسْتَنقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ

হে লোক সকল! একটি উপমা বর্ণনা করা হলো, অতএব তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোন; তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের পূজা কর, তারা কখনও একটি মাছি সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের কাছ থেকে কোন কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে তা উদ্ধার করতে পারবে না, প্রার্থনাকারী ও যার কাছে প্রার্থনা করা হয়, উভয়েই শক্তিহীন। [৯]

তিনি আরো বলেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তার সাথে কাউকে শিরক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। [১০]

ঘরের পাশে যে উৎসবটিতে স্বয়ং আল্লাহকে চরমভাবে অপমান করা হয়, সে উৎসব উপলক্ষে আমরা সবাইকে ❝মেরি ক্রিসমাস❞ জানাই, ❝শারদীয় শুভেচ্ছা❞ জানাই! আল্লাহর অপমান আমাদের গায়ে তো লাগেইনা বরং সেটাতে আনন্দের জানান দেই। বড় দুঃখজনক বিষয় এটি!

এসকল আচার-অনুষ্ঠানে আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করা হয়! অথচ এটা কতটা ঘৃণিত ও গর্হিত কথা, সেটা যদি মুসলিমরা কল্পনা করত তাহলে এসব অনুষ্ঠানে তারা কখনোই যেতে পারতো না এবং তার প্রতি সন্তুষ্টিও প্রকাশ করতে পারত না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

আর তারা বলে, দয়াময় সন্তান গ্ৰহণ করেছেন। তোমরা তো এমন এক বীভৎস বিষয়ের অবতারণা করছ; যাতে আসমানসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবার উপক্রম হয়, আর যমীন খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং পর্বতমণ্ডলী চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে, এ জন্যে যে, তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে। অথচ সন্তান গ্ৰহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভন নয়! আসমানসমূহ ও যমীনে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের কাছে বান্দারূপে উপস্থিত হবে না।

আলোচ্য আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার সাথে কাউকে শরীক করলে বিশেষতঃ আল্লাহর জন্য সন্তান সাব্যস্ত করলে পৃথিবী, পাহাড় ইত্যাদি ভীষণরূপে অস্থির ও ভীত হয়ে পড়ে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لَيْسَ أَحَدٌ ـ أَوْ لَيْسَ شَىْءٌ ـ أَصْبَرَ عَلَى أَذًى سَمِعَهُ مِنَ اللَّهِ، إِنَّهُمْ لَيَدْعُونَ لَهُ وَلَدًا، وَإِنَّهُ لَيُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ

খারাপ কথা শোনার পর আল্লাহর চেয়ে বেশী ধৈর্য-সহনশীল আর কেউ নেই, তার সাথে শিরক করা হয়, তার জন্য সন্তান সাব্যস্ত করা হয় তারপরও তিনি তাদেরকে নিরাপদ রাখেন এবং তাদেরকে জীবিকা প্ৰদান করেন ৷ [১১]

শিরক সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

আর স্মরণ করে সে সময়ের কথা, যখন লুকমান তার সন্তানকে উপদেশ দেওয়ার সময় বললেন, হে আমার প্রিয় পুত্র! তুমি আল্লাহর সাথে শিরক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শিরক করা সবচেয়ে বড় জুলুম। [১২]

জুলুম বলতে আমরা বুঝি অন্যায়, অপরাধ। শিরককে আল্লাহ সবচেয়ে বড় অপরাধ ঘোষণা দিয়েছেন। এখন এই শিরকের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো মানে হল কাউকে খুন করা, বা ধর্ষণ করার পর শুভেচ্ছা জানানোর অনুরুপ। কেউ ধর্ষণ, হত্যা করে আসলে কি আপনারা বলেন , শুভ ধর্ষণ , শুভ হত্যা। না! তা কিন্তু কেউ বলে না। আর বলা মানে সে এটাকে সাপোর্ট করছে।
এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেন

অনেক মানুষ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, কিন্তু সাথে সাথে শিরকও করে। [১৩]

কিন্তু প্রশ্ন এসে দাঁড়াই— এটা কীভাবে সম্ভব যে, একজন ব্যক্তি ইমান আনবে আবার কুফর-শিরকে লিপ্ত হবে?

সহজ সরল উত্তর হলো— কোন হিন্দুকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা-সম্ভাষণ জানানো অর্থ তার এই পূজা করাতে আপনার সমর্থন আছে। আপনাকে যদি আজকে গালি দেওয়া হয় তাহলে আপনি রেগে তেড়ে আসবেন, পিতৃত্বে শরিক করলে আমাদের আঁতে ঘাঁ লাগে! অথচ যে আল্লাহ তাআলা আমাদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনলেন, প্রতি মুহূর্ত অক্সিজেন দিচ্ছেন ফ্রি, আহার-পানীয়-পোশাকের ব্যবস্থা করে দিলেন, সেই আল্লাহ তাআলার সাথে প্রতিনিয়ত শিরক করা হলেও আমাদের আমাদের কপালে সামান্যও চিন্তার রেখা পরিলক্ষিত হয় না। সেই আল্লাহর জায়গায় মাটির একটা মূর্তি বসিয়ে করা পূজা দেখে শুভেচ্ছা জানায় – শারদীয় শুভেচ্ছা। এখন আপনিই বলেন এই কাজটা কি শিরক নয়?!

জাহেলি যুগেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিরা মূর্তিপূজারকদের যেকোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, নিষেধ করেছেন। কারন সেখানে সরাসরি শিরক হচ্ছে। আর অন্যান্য অনৈসলামিক কর্মকান্ড তো হচ্ছেই। কাফিরদের যে কোন উৎসবে অংশগ্রহণ করা মুসলিমদের জন্য হারাম।

উমার ইবনুল খাত্তাব রাদি. বলেন,

لا تدخلوا عليهم في كنائسهم يوم عيدهم، فإن السخطة تنزل عليهم

তোমরা কাফির-মুশরিকদের উপসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ সেই সময় তাদের ওপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে থাকে।[১৪]

তিনি আরো বলেন,

اجتنبوا أعداء الله في عيدهم

তোমরা আল্লাহর দুশমনদের উৎসবগুলোতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাক। [১৫]

অন্য আরেকটি বর্ণনায় আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদি. বলেন

من بنى ببلاد الأعاجم وصنع نيروزهم ومهرجانهم وتشبه بهم حتى يموت وهو كذلك، حشر معهم يوم القيامة.

অর্থাৎ যারা বিধর্মীদের মত উৎসব করবে, কিয়ামত দিবসে তাদের হাশর ঐ লোকদের সাথেই হবে। [১৬]

মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহিম আলাইহিস সালাম মূর্তিপূজকদের উদ্দেশ্যে যখন সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিলেন, তখন এর সেই বিষয়টা কি আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য আদর্শ বানিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

قَدۡ کَانَتۡ لَکُمۡ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ فِیۡۤ اِبۡرٰهِیۡمَ وَ الَّذِیۡنَ مَعَهٗ ۚ اِذۡ قَالُوۡا لِقَوۡمِهِمۡ اِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنۡکُمۡ وَ مِمَّا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ ۫ کَفَرۡنَا بِکُمۡ وَ بَدَا بَیۡنَنَا وَ بَیۡنَکُمُ الۡعَدَاوَۃُ وَ الۡبَغۡضَآءُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰهِ وَحۡدَهٗۤ اِلَّا قَوۡلَ اِبۡرٰهِیۡمَ لِاَبِیۡهِ لَاَسۡتَغۡفِرَنَّ لَکَ وَ مَاۤ اَمۡلِکُ لَکَ مِنَ اللّٰهِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ رَبَّنَا عَلَیۡکَ تَوَکَّلۡنَا وَ اِلَیۡکَ اَنَبۡنَا وَ اِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ.

অবশ্যই তোমাদের জন্য ইবরাহিম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইবাদত কর তা হতে আমরা সম্পৰ্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি। তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হল শক্ৰতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহতে ইমান আন। তবে ব্যতিক্রম তার পিতার প্রতি ইবরাহমের উক্তিঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব; আর তোমার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমি কোন অধিকার রাখি না। ইবরাহীম ও তার অনুসারীগণ বলেছিল, হে আমাদের রব! আমরা আপনারই উপর নির্ভর করেছি, আপনারই অভিমুখী হয়েছি এবং ফিরে যাওয়া তো আপনারই কাছে। [১৭]

উল্লেখিত আয়াতে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয় :

  • কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন না করার বিষয়কে আরো স্পষ্ট করার জন্য ইবরাহম আলাইহিস সালাম-এর উদাহরণ দেওয়া হচ্ছে। أُسْوَةٌ এর অর্থ হল, এমন উত্তম নমুনা ও আদর্শ যার অনুসরণ করা যায়।
  • শিরকের কারণে আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া আল্লাহর উপাসকদের সাথে গায়রুল্লাহর পূজারীদের কি সম্পর্ক থাকতে পারে?
  • আয়াতে যে বিচ্ছেদ ও বিদ্বেষের কথা বলা হয়েছে তা ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না তোমরা কুফরি ও শিরক ত্যাগ করে তাওহীদকে অবলম্বন করেছ। যখন তোমরা এক আল্লাহর অনুসারী হয়ে যাবে, তখন এ শত্রুতা বন্ধুত্বে এবং বিদ্বেষ সম্প্রীতিতে পরিবর্তন হয়ে যাবে।
  • ইবরাহিম আলাইহিস সালাম -এর গোটা জীবনটাই অনুসরণীয় আদর্শ। তবে তার (মুশরিক) পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এমন একটি কাজ, যাতে তার অনুসরণ করা উচিত নয়। কেননা, তার এই কাজটা ছিল তখনকার, যখন তিনি নিজ পিতার ব্যাপারটা জানতেন না। সুতরাং যখন তিনি অবগত হলেন যে, তার পিতা আল্লাহর শত্রু, তখন তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্নতার কথা ঘোষণা করলেন। এজন্য মুসলিমদেরকে ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর উত্তম আদর্শ ও সুন্নাত অনুসরণ করার জোর আদেশ দেয়ার পর ইবরাহিম আলাইহিস সালাম যে তার মুশরিক পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন ইবরাহিমি আদর্শের অনুসরণ থেকে একে ব্যতিক্রম প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, অন্যসব বিষয়ে ইবরাহিমী আদর্শের অনুসরণ জরুরী, কিন্তু তার এই কাজটির অনুসরণ মুসলিমদের জন্যে জাইয নয়।
  • রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ، حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، إِلَّا بِحَقِّ الْإِسْلَامِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ.

আমাকে মানুষের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। যতক্ষণ তারা এ সাক্ষ্য দিবে না যে, আল্লাহ ছাড়া কোন হক ইলাহ নেই, আর মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। আর সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে। তারা এটা করলে আমার হাত থেকে তাদের জান ও মাল নিরাপদ করতে পারবে। তবে ইসলামের কোন হকের কারণে যদি পাকড়াও করা হয় সেটা ভিন্ন কথা। আর তাদের হিসাবের দায়িত্বভার আল্লাহর উপরই রইল। [১৮]

তবে এই ক্ষেত্রটা আসলে শয়তান ধোঁকাপূর্ণ প্রশ্নটি আমাদের কাছে ছুঁড়ে দেয় তা হলো— একজন মুসলিম কি তবে একজন হিন্দু প্রতিবেশীর শুভ কামনা করবে না? তার খ্রিস্টান বা হিন্দু সহপাঠীর ভালো চাইবে না?

এ প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে ক্লিয়ার ভাবে থাকতে হবে, অন্যথায় শয়তান বেশি করে ধোঁকা দিবে!

এই প্রশ্নের উত্তর হলো—নিশ্চয়ই তাদের ভালো ও কল্যাণ কামনা করবে। ভাল ও কল্যাণ কামনার প্রথম কাজটাই হবে তাকে আল্লাহর একত্ববাদ বোঝানো, তাকে সে দিকে আহবান জানানো। একজন মানুষকে অনন্তকালের জন্য আগুনে পোড়া থেকে বাচাঁনোর চেয়ে আর ভাল কাজ কি হতে পারে? অমুসলিম ভাই-বোনদের সাথে সামাজিক লেনদেন কুশল বিনিময় বিপদে আপদে সাহায্য করা, মানবিক প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ইত্যাদি আমাদের মানবিক দায়িত্ব কর্তব্য। কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে।

মনে রাখতে হবে, বিধর্মীদেরকে তাদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণরূপে হারাম; তারা সহকর্মী হোক কিংবা অন্য কিছু হোক।

এখন আর একটা যে প্রশ্ন আসতে পারে তা হলো যে, যদি বিধর্মীরা আমাদেরকে তাদের উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানায় তাহলে আমরা তার উত্তর দিব কি না?

এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর হলো—আমরা তার উত্তর দিব না। কারণ সেটা আমাদের ঈদ-উৎসব নয়। আর যেহেতু এসব উৎসবের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট নন। আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমস্ত মানবজাতির কাছে ইসলাম ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন, যে ধর্মের মাধ্যমে পূর্বের সকল ধর্মকে রহিত করে দেয়া হয়েছে; হোক এসব উৎসব সংশ্লিষ্ট ধর্মে অনুমোদনহীন নব-সংযোজন কিংবা অনুমোদিত (সবই রহিত)।

আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَ مَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡهُ ۚ وَ هُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ

আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। [১৯]

সুতরাং প্রতিটি ব্যক্তি ধর্ম হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মেনে চলার সাথে সাথে অন্যান্য সকল ধর্ম অস্বীকার করতে হবে, তাহলেই আল্লাহ তাআলার কাছে একজন প্রকৃত আত্মসমর্পণকারী হওয়া সম্ভব এবং এতেই ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি নিহিত।

কোন মুসলিমের এমন উৎসবের দাওয়াত কবুল করা হারাম। কেননা এটি তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানোর চেয়ে জঘন্য। কারণ এতে করে দাওয়াতকৃত কুফরি অনুষ্ঠানে তাদের সাথে অংশ গ্রহণ করা হয়।

অনুরূপভাবে এ উপলক্ষকে কেন্দ্র করে কাফিরদের মত অনুষ্ঠান করা, উপহার বিনিময় করা, মিষ্টান্ন বিতরণ করা, খাবার-দাবার আদান-প্রদান করা, ছুটি ভোগ করা ইত্যাদি মুসলিমদের জন্য হারাম। যেহেতু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

من تشبه بقوم فهو منهم

যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে সে তাদের-ই দলভুক্ত। [২০]

শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহি. বলেন,

أن مشابهتهم في بعض أعيادهم يوجب سرور قلوبهم بما هم عليه من الباطل، خصوصا إذا كانوا مقهورين تحت ذل الجزية والصغار، فرأوا المسلمين قد صاروا فرعا لهم في خصائص دينهم، فإن ذلك يوجب قوة قلوبهم وانشراح صدورهم، وربما أطمعهم ذلك في انتهاز الفرص، واستذلال الضعفاء،

তাদের কোন উৎসব উপলক্ষে তাদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করলে এ বাতিল কর্মের পক্ষে তারা মানসিক প্রশান্তি পায়। বিশেষত যেখানে তাদের নতজানু হয়ে জিজিয়া প্রদানে বাধ্য হওয়ার কথা ছিল, সেখানে যখন তারা লক্ষ্য করে যে মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাদেরই অংশীদার হয়ে গেছে, তখন এর মাধ্যমে তারা আত্মিক প্রশান্তি ও শক্তি লাভ করে, যা কখনো কখনো নানাবিধ সুযোগ গ্রহণ করা ও দুর্বলদেরকে বেইজ্জত করার সম্ভাবনা তৈরী হয়। [২১]

যে ব্যক্তি বিধর্মীদের এমন কোন কিছুতে অংশগ্রহণ করবে সে অতিঅবশ্যই গুনাহগার হবে। এ অংশগ্রহণের কারণ সৌজন্য, হৃদ্যতা বা লজ্জাবোধ ইত্যাদি যেটাই হোক না কেন। কেননা এটি আল্লাহর ধর্মের ক্ষেত্রে আপোষকামিতার শামিল। এবং এটি বিধর্মীদের মনোবল শক্ত করা ও স্ব-ধর্ম নিয়ে তাদের গর্ববোধ করার কারণের অন্তর্ভুক্ত।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন মুসলমানদেরকে ধর্মীয়ভাবে শক্তিশালী করেন, ধর্মের ওপর অবিচল রাখেন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাদেরকে বিজয়ী করেন। নিশ্চয় তিনি শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী।

পাদটীকাঃ
[১]—আহকামু আহলিয যিম্মাহ, ১/৪৪১
[২]—সুরাহ আয-যুমার, আয়াত ৭
[৩]—দেওবন্দের অফিশিয়াল সাইটে প্রকাশিত, ফতওয়া নং ১৪৫৬৪৯
[৪]—দেওবন্দের অফিশিয়াল সাইটে প্রকাশিত, ফতওয়া নং ১৫৫২৬৪
[৫]—সুরাহ আল-মায়িদা, আয়াত ২
[৬]—সুরাহ হুদ, আয়াত ১১৩
[৭]—দেওবন্দের অফিশিয়াল সাইটে প্রকাশিত, ফতওয়া নং ৬২৪৬৪ ও ৬৩৯৫০
[৮]—সুরাহ আল ইমরান, আয়াত ১৯
[৯]—সুরাহ হাজ্জ, আয়াত ৭৩
[১০]—সুরাহ আন-নিসা ১১৬
[১১]—সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ৬০৯৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮০৪
[১২]—সুরাহ লুকমান, আয়াত ১৩
[১৩]—সুরাহ ইউসুফ, আয়াত ১০৬
[১৪]—মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক, হাদিস নং ১৬০৯
[১৫]—আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস, ১৮৮৬২
[১৬]—আস-সুনানুল কুবরা, হাদিস নং ১৫৫৬৩
[১৭]—সুরাহ আল-মুমতাহিনাহ, আয়াত ৪
[১৮]—সহিহুল বুখারি, হাদিস নং ২৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২
[১৯]—সুরাহ আলে-ইমরান, আয়াত ৮৫
[২০]—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪০৩১
[২১]—ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, ১/৫৪৬, প্রকাশনী : দারু আলামিল কুতুব

Join the Conversation
By - আব্দুল্লাহ আল মামুন

ইমাম ও খতিব, বায়তুল ফালাহ্ জামে মসজিদ, শের-এ বাংলা রোড, খুলনা।