হিজড়াগণ কিভাবে নামাজ আদায় করবেন?

মূলপাতা > হিজড়াগণ কিভাবে নামাজ আদায় করবেন?

আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমাদের অনেকে হিজড়া ভাইবোন দীনের ছায়া তলে আসছেন। অনেকে তাঁদের নামাজ নিয়ে প্রশ্ন করছেন যে, তারা ছেলেদের মতো আমল করবে নাকি মেয়েদের মতো? সেই প্রশ্নের উত্তরে লেখা এটি।

হিজড়া দু’ই ধরনের হয়ে থাকে

  • গাইরে মুশকিল বা যাদের মাঝে ছেলে হওয়ার আলামত বা মেয়ে হওয়ার আলামত স্পষ্ট।
  • মুশকিল বা যাদের মাঝে ছেলে হওয়ার আলামত বা মেয়ে হওয়ার আলামত স্পষ্ট নয়।

হুকুমঃ

গাইরে মুশকিল বা যাদের মাঝে ছেলে হওয়ার আলামত বা মেয়ে হওয়ার আলামত স্পষ্ট। তাঁদের জানা দিকটি বিবেচনা করে তাঁদের উপর হুকুম দেওয়া হবে। যেমন, যদি জানা থাকে তার মাঝে ছেলের আলামত আছে, তবে ছেলেদের বিধিবিধান তার উপর বর্তাবে। আর যদি মেয়েদের দিকটি জানা যায়, তবে মেয়েদের বিধিবিধান বর্তাবে।

মুশকিল বা যাদের মাঝে ছেলে হওয়ার আলামত বা মেয়ে হওয়ার আলামত স্পষ্ট নয়। তাহলে আগে দেখতে হবে যে, তার মাঝে থাকা আলামতের দিকটি জানা সম্ভব হয় কিনা?
যেমন-
  • শিশু বয়েসে সে কোন অঙ্গ দ্বারা পেশাব করছে, ছেলে অঙ্গ না মেয়ে অঙ্গ?
  • বালেগ হবার পর দেখতে হবে তার হায়েজ আসে কিনা?
  • দাঁড়ি উঠেছে কিনা ,তার স্তন্য বেশ বড় কিনা?
  • তার মাঝে ক্ষিপ্রতা, সাহসিকতা পুরুষদের মতো কিনা?
ইত্যাদি দেখে যদি বুঝা যায় , তবে তার উপর সে হুকুম দেওয়া হবে। আর যদি এসব থেকে স্পষ্ট জানা সম্ভব না হয়, তবে সালাতের ক্ষেত্রে তার বিধান হল,
শায়েখ উসাইমিন (রাহি) বলেছেন,
الخُنثى هو : الذي لا يُعلم أذكرٌ هو أم أُنثى ، فلا تجب عليهم الجماعةُ
অর্থঃ সেসব হিজড়া যাদের ছেলে হওয়ার বা মেয়ে হওয়া জানা যায় না, তাঁদের জন্য জামাত ওয়াজিব নয়।
[শরহে মুমতীঃ ৪/১৪০]
শায়েখ মুনাজ্জিদ(হাফি) বলেন,
ولو صلى في المسجد صحت صلاته ، ولكن يُصَفّ الخناثى في صف وحدهم ، أمام صف النساء
অর্থঃ যদি তারা মসজিদে নামাজ আদায় করে , তবে নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে তারা মহিলাদের কাতারের পূর্বে এবং পুরুষদের কাতারের পিছে দাঁড়াবে।
[ইসলামি কিউঃ ২২১৯১৯ নং ফাতাওয়া]
যদি আলামাত জানা নেই এমন অস্পষ্ট কোন হিজড়া পুরষদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে , তবে সে ক্ষেত্রে হানাফী আলেমদের প্রসিদ্ধ মত হল,
وَالْمَشْهُورُ عِنْدَ الْحَنَفِيَّةِ أَنَّ مُحَاذَاتَهُ لِلرَّجُل مُفْسِدَةٌ لِلصَّلاَةِ
অর্থঃ হানাফীদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হল, পুরুদের বরাবর দাঁড়ালে (হিজরার) নামাজ ফাসিদ বা নষ্ট হয়ে যাবে।
নোটঃ তবে হাম্বালীদের মতে এমন হিজরারা পুরুষদের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াতে কোন সমস্যা নেই।
[ফাতাওয়ে শামীঃ ১/৩৮৪, মুগনীঃ ১/২১৮-২১৯ মাওসুয়াতু ফিকহি কুয়েতিয়াঃ ২০/২৫]
নামাজে তাঁদের পোশাক কেমন হবে? 
হানাফীদের মত হল
يَرَى الْحَنَفِيَّةُ وَالشَّافِعِيَّةُ أَنَّ عَوْرَةَ الْخُنْثَى كَعَوْرَةِ الْمَرْأَةِ حَتَّى شَعْرُهَا النَّازِل عَنِ الرَّأْسِ خَلاَ الْوَجْهَ وَالْكَفَّيْنِ
অর্থঃ হানাফী ও শাফেয়ীদের মত হল, (আলামত জানা নেই এমন ) হিজরাদের সতর হল মহিলাদের সতরের মতো। এমনকি মাথা হতে তার পড়ন্ত চুলও সতর, শুধু মুখ ও হাতের তালু ব্যাতীত।
وَيُصَلِّي بِقِنَاعٍ ) لِاحْتِمَالِ أَنَّهُ امْرَأَةٌ
অর্থঃ সে খিমার পড়ে নামাজ পড়বে। সে মেয়েও হতে পারে এই সম্ভবনা বাকি থাকার কারনে।
তবে হাম্বালী আলেমদের নিকট এমন সম্ভবনাময় অবস্থায় তার উপর পুরুষের বিধান দেওয়া হবে। তার জন্য খিমার বা অতিরিক্ত সতরের দরকার নেই।
[ফাতাওয়ে শামীঃ ১/১০৫, ২০৭, আশবাহ ও নাযায়েরঃ ৩৮৪, মুগনীঃ ১/৬০৫, ইখতিয়ারঃ ৩/৩৯, মাওসুয়াতুল ফিকহিল কুয়েতিয়াঃ ২০/২৪ ]